ভূমি
বোম্বাই লিচু
লিচুর ইতিহাস -
লিচুর আঁতুড়ঘর হচ্ছে চীন। চীনা বিজ্ঞানী লাই চি প্রথম এর সন্ধান পান। অনেকে মনে করেন, লাই চি থেকেই লিচু নাম এসেছে। ফল নিয়ে পৃথিবীতে প্রথম বই লেখা হয় ১০৫৬ সালে। সেটি এই লিচু ফল নিয়েই। রাজা-রানি, বেগম-বাদশা, উজির-নাজির, নবাব, সম্রাট, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী সবারই মন জয় করেছে লিচু। অষ্টম শতকে চীনা সম্রাট হুয়ান সাং দক্ষিণ চীন থেকে লিচু নিয়ে গিয়ে উত্তর চীনে সম্রাজ্ঞীকে উপহার দিয়েছিলেন। লিচুর ইংরেজি নাম লিচি। বৈজ্ঞানিক নাম Litchi chimensis। এতে ভিটামিন ‘সি’ আছে। পুষ্টিমানও বেশ ভালো। বাংলাদেশে রাজশাহী, যশোর, দিনাজপুর, রংপুর, কুষ্টিয়া, পাবনা, ময়মনসিংহ, ঢাকার সোনারগাঁ, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরা, চট্টগ্রামসহ আরো কয়েকটি জেলায় লিচুর চাষ হয়। চাটনি, ঘর সাজানো, চকোলেট তৈরিতেও লিচুর ব্যবহার দেখা যায়। লিচুর অনেক ঔষুধি গুণ রয়েছে। কাশি, পেটব্যথার মতো রোগে লিচু ফল কার্যকর। বোলতা, বিছের দংশনে এর পাতার রস ব্যবহার করা হয়। চর্মরোগে লিচুর বিচি ভালো কাজে লাগে।
বোম্বাই লিচু -
রাজশাহী, দিনাজপুর, মেহেরপুর, যশোর ও কুষ্টিয়া জেলায় বোম্বাই লিচুর চাষ হয়। পাকলে টকটকে লাল বর্ণ ধারণ করে (কিন্তু এই বছর অনাবৃষ্টির জন্য লিচুর সাইজে এবং রঙে পরিবর্তন এসেছে) । সাধারনত এই বোম্বাই লিচু বেশ মিষ্টি হয়। ওজন হয় ১৫-২০ গ্রাম। শাঁস রসাল। এই লিচু কয়েক দিন ধরে সংরক্ষণ করা যায়।